বসতবাড়ির আঙ্গিনায় বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা (পাঠ-৮)

বনায়ন - কৃষিশিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

867

সব জায়গায় বৃক্ষরোপণের নিয়ম প্রায় একই রকম। বসতবাড়ির আঙ্গিনায় বৃক্ষরোপণের জন্য মৌসুমি বৃষ্টি শুরু হওয়ার এক মাস আগে গর্ত করতে হবে। গর্তের আকার হবে (৫০ সেমি x ৫০ সেমি X ৫০ সেমি)। গর্তে মাটির সঙ্গে ১০ কেজি গোবর সার, ৫০ গ্রাম টিএসপি এবং ৫০ গ্রাম এমওপি সার ভালো করে মেশাতে হবে। সার মেশানো মাটি গর্তে কমপক্ষে এক মাস রেখে দিতে হবে। এক মাস পর যখন মৌসুমি বৃষ্টি শুরু হবে, তখন ভালো নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করে রোপণ করতে হবে।

পলিব্যাগে উৎপাদিত চারা রোপণের ধাপগুলো চিত্রে দেখানো হলো

চারা লাগানোর সময় প্রয়োজনীয় সাবধানতা
১. সতর্কতার সাথে পলিব্যাগটি ধরে একটি ধারালো ব্লেড বা ছুরি দিয়ে পলিব্যাগটি কেটে অপসারণ করতে হবে।
২. খেয়াল রাখতে হবে চারার গোড়ার মাটি যেন ভেঙে না পড়ে।
৩. চিত্রের মতো করে চারাটি সাবধানে গর্তে বসিয়ে মাটি দিয়ে চারদিকের ফাঁকা অংশ ভরাট করে দিতে হবে।
৪. লাগানোর সময় চারাটির সবুজ অংশ যাতে মাটিতে ঢেকে না যায় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
৫. চারার গোড়ার মাটি একটু উঁচু করে দিতে হবে, যাতে গোড়ায় পানি জমতে না পারে।

চারার গোড়ার আগাছা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। শীতকালে মাটির রস ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য চারার গোড়ায় খড়কুটা বিছিয়ে মালচিং করতে হবে। শুষ্ক মৌসুমে বিকেলে নিয়মিত পানি সেচ করতে হবে।

সার প্রয়োগ

চারার বৃদ্ধি ভালো না হলে ৩-৪ মাস পরে সার প্রয়োগ করতে হবে। চারাপ্রতি ৫০ গ্রাম ইউরিয়া সার দিতে হবে। চারার গোড়া থেকে ১২-১৫ সেমি দূরে চারার চারদিকে সরু শক্ত কাঠি দিয়ে ৮-১০টি গর্ত করতে হবে। এ গর্তসমূহে ৫০ গ্রাম ইউরিয়া সার সমান ভাগ করে দিতে হবে। এভাবে সার প্রয়োগ করাকে ডিবলিং পদ্ধতি বলে। মাটি শুকনো থাকলে সার দেওয়ার পর যথেষ্ট পরিমাণ পানি দিয়ে গাছের গোড়ার মাটি ভিজিয়ে দিতে হবে। প্রতিবছর বর্ষার শুরুতে একবার এবং বর্ষার শেষে একবার সার প্রয়োগ করা যেতে পারে। প্রতিবার ইউরিয়া ৭৫ গ্রাম, টিএসপি ৫০ গ্রাম এবং এমওপি ৫০ গ্রাম করে ডিবলিং পদ্ধতিতে চারার গোড়ায় সার প্রয়োগ করতে হবে। চারা রোপণের পরের ৩ বছর এভাবে সার প্রয়োগের প্রয়োজন হতে পারে।

কাজ: বিদ্যালয়ের বাগানে দলগতভাবে চারা রোপণ কর।

নতুন শব্দ: মালচিং, ডিবলিং।

Content added || updated By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...